Posts

নিদ্রিতাকে ---- মুশফিক বরাত

শুক্লপক্ষের শেষ তিথিতে তোমার-আমার প্রেমের সূচনা যেমন তুমি হারিয়ে যাবে চিরতরে                                কোনো এক কৃষ্ণপক্ষে। ব্রক্ষ্মদেব করেছিল আশির্বাদ যেমন- ইন্দ্রদেব দিয়েছিল আসন্ন স্বর্গের পূর্বাভাস স্বর্গের অপ্সরা সব নেচেছিল প্রথম জন্মে আমাদের তিথিতে আমার পূর্বজন্মে তুমি ছিলে পদ্মফুল আর আমি ছিলাম কৃষ্ণচূড়া। তোমার জন‍্যে আমি হতে রাজি কিউপিড ঘোষণা করতে রাজি এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের; আমি রাজি মার্সের বরাত নিয়ে ক্ষত্রিয় বেশে কোনো এক পলাশীর যুদ্ধ ডেকে আনতে। হয়তো আমার সুন্দর ডানা দুটি ভেঙে দিয়ে যাবে শত্রুপক্ষ। তছনছ ক'রে দিয়ে যাবে সোনার কেল্লা। তবুও তীর-ধনুক হাতে প্রতিরোধ গড়ব আমি। আত্মার শপথ- কোনোভাবেই হারাতে দেব না সাইকিকে কোনোভাবেই হারাতে দেব না আমার সাইকিকে। মার্সের বর নিয়ে শপথ করেছিলাম যখন                             আবারো দ্বিতীয় যুদ্ধের; স্ট‍্যালিনের শক্ত দূর্গের চূড়া ভেদ করে               ...

নিদ্রিতার জন‍্য ভালোবাসা --- মুশফিক বরাত

১. নিদ্রিতা পথ চলছে একাকী জনহীন রাস্তায় হাঁটছে আপন মনে, কোমল শরীর দুলিয়ে এগিয়ে কিছুটা টিউলিপের গন্ধ প্রত‍্যাশায় শিরশীর্ষ উঁচু- পথ এলোমেলো এদিক-সেদিক ছড়িয়ে রয়েছে বালুকণা। একটা ফুলের বাগান, নির্জন নিঃসঙ্গতায় পূর্ণ গন্ধ চেয়ে নিয়েছে সহসাই এক সাহসী যুবক। চতুর কুকুরের দল পিছু নিয়েছে যেন পথ আগলে ধরেছে বখাটেরা। উষ্ণ পুরুষটির দীর্ঘ গ্রীবায় হাত রাখোনি যদিও বুকের পাঁজরে ভুলোনি সাহসী যুবকটির বেদনাও বলোনি- হেঁটেছি, নিঃসঙ্গ হেঁটেছি সঙ্গীহীন এগিয়ে এসেছে শহুরে লাল শিয়ালের জুটি এগিয়ে এসেছে জনৈক প্রৌঢ় বৃদ্ধ। সাহসী মন নিয়ে কেঁপে উঠেছ কখনো নিভৃত লোকালয়ে উদয় খুঁজেছ কখনো। উদিত হয়েছে সূর্য উদিত হয়েছে চন্দ্র জানান দিয়ে গেছে কেঁপে কেঁপে ধ্রুবতারা। গন্ধ শুঁকেছো রজনীগন্ধার পরশ নিয়েছো রক্তজবার ভেসেছ সুখস্বপ্নে সুখরামের- এসেছে আরেকটি সুবর্ণ দিন। নিঃসঙ্গতায় কাটছে কি আজকাল? বেদনায় নীল হয়েছ কি দিনময়? জেনেছ কি! আমিও ঘুমাইনা আজকাল দুঃস্বপ্নের ঘোরে চেয়ে থাকিনা দীর্ঘ প্রতীক্ষায়- ভাবি নষ্ট আবেগে নিদ্রিতার কোমলতায়। এমনি কোনো এক সকালে ডেকে উঠব আচমকা- আমি তোমার সঙ্গী হব। ২. যখন দেখি মোনালিসা পেইন্টিংয়ের চেয়ে একজন ...

অজানা ক্ষোভ --- মুশফিক বরাত

রূপোলী আলোকে সোনালী ঝলকে পৃথিবী পানে ধেয়ে আসবে ডাবল হেলিক্স নেবুলা; সংযত হবে না কেটু পাহাড়ের দম্ভ আর ভেঙে যাবে না চাটুকার নেতার লালায়িত স্বর্গ। কোনো এক রূপোলী বিকেলে গান ছেড়ে উচ্চাঙ্গ সংগীতের চর্চায় মশগুল হলেম সকলে- আমি বলেছিলাম- আমার দৌড় ঐ নচিকেতা পর্যন্তই। নিদ্রিতা বলেছিল- আমি শুধু শ্রেয়া ঘোষাল। সবাই হেসেছিল; সজোরে সবাই হেসেছিল। সভায় কথা উঠেছিল, একজন সাধুপুরুষ ক্ষমতায় বসলে তারও সমালোচনা ক'রে ছেড়ে দেবে কি জনতা? আমি মাওলানা ভাসানীর মতো বললাম, হয়তো তাই। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধবে ব'লে। নিদ্রিতা সাড়ে ছত্রিশের বুড়ো দেখেছো যে তার হলুদ কোমর দুলিয়ে চলে আর বউ খোঁজে। এমন মুহুর্তে আমি ভাবছিলাম চব্বিশের কথা তোমার বয়স হয়েছিল তাও আমার জানা। লোকে বলে, আঠারো বছর বয়স স্পর্ধায় নেয় মাথা তোলবার ঝুঁকি আর বয়ে নিয়ে আসে সফলতা।যেমন বিশ ডেকে আনে বিফলতা। বাড়ে তেলের দাম, বাড়ে ডিজেলের মূল‍্য জনতার সহিত ক্ষমতাসীন নেতার দূরত্বের খবর একটা পান্ডাও রাখেনা। যেমন মোদীর মার্বেল পাথরের মূর্তি জনতা দড়ি লাগিয়ে টেনে নামাতে চায়। ভণ্ড-চরিত্রহীন নেতার দম্ভ দিকে দিকে ফাল্গুনের আহ্...

রেড ক্রসিং --- মুশফিক বরাত

যখন দেখি মোনালিসা পেইন্টিংয়ের চেয়ে একজন পান্ডার সামর্থ‍্য বেশি যখন ভগবান তার স্বর্গীয় লেজ গুটিয়ে পালায়। যখন দেখি আকবর বাদশার সঙ্গে হরিপদ কেরানির কোনো ভেদ নেই( রবি ঠাকুরের মতো ) তখন আকাশ ফেটে পড়ে নিনাদে ঘন ঘন বিদ‍্যুৎ চমকায় আর সাম্রাজ্যবাদ দেয় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডাক; উদাস কবির কবিতা ছাপাবার স্বপ্ন আর নগ্ন নারীর হাজারো পোজ অনবরত বাতাস কাঁপায়। বেগতিক কৃষক ইরি আবাদের কৃতিত্বের লজ্জা বয়ে নিয়ে বেড়ায় ঈশ্বর তার প্রকাণ্ড রক্তাষ্মু জিহ্বা বের করে। উড়িয়ে দেয় গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহর ভেঙে যায় বিদ‍্যুতের খুঁটি- ভাসমান সোনালী ধানক্ষেত; আচমকা ডাক দিয়ে যায় অজানা নূহের প্লাবন। একদিন হঠাৎ নিদ্রিতাকে বলে উঠলাম, বড়ই দুরন্ত কিশোর ছিলেন স্টিফেন হকিং। আমি কথা দিয়েছিলাম হাসবো না। তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস‍্যা পেরিয়ে গেছে( সুনীলের মতো ) নিদ্রিতার দেখা নেই, কথা নেই। আমিও আর বহুদিন হাসিনি। নাটোরের বনলতা সেনের কাছাকাছি দুটো সিগারেট ধরালাম।তা...

নিঃশ্বাসে বৈশাখ --- মুশফিক বরাত

গন্ধরাজের সুবাস নিয়ে গঙ্গা-পদ্মা মাতিয়ে এল বৈশাখ। স্বপ্নের মালা বাংলায় গেঁথে পরাবো বাংলা মায়ের খোঁপায়। এবং ইচ্ছে করে পিজ্জাটা বুর্জোয়ার মুখে সজোরে ছুড়ে ফেলে দিতে; প্রবাসী বাঙালীর মরিচ, কোলকাতার লবণ আর বাংলাদেশের স্বাধীনতা মিশিয়ে পান্তার নেশায় বৈশাখে মাতাল হবো আনন্দে। ন‍্যাংটা বালকের তড়াগে ঝাঁপ, ঢেউয়ের তরঙ্গে ভেসে নিঃশ্বাসে, মায়ের গর্ভকে স্বাগত জানিয়ে, বর্ষা-বসন্ত মাড়িয়ে প্রতিবার এমনি করেই আসবে বৈশাখ।

তুমি হতে পারো মনোবিহঙ্গম ---- মুশফিক বরাত

তুমি সাগর তীর ঘেষে হেঁটে চলো ঢেউ আছড়ে পড়ুক তোমার বুকে। গড়ে উঠবে টাইগ্রিস আর মেসোপটেমিয়ায় আমাদের বসবাস শিরি-ফরহাদ হেসে উঠবে সহসাই তুমি হতে পারো ব‍্যালে নৃত‍্যের কোনো ইরা। দারুচিনি দ্বীপ মুখরিত হয়ে উঠুক পদচারণায় যেমন হতে পারো কোনো নারী তেরেসকোভা ঘন সাপের জঙ্গলে খুঁজে নিতে পারো অবহেলা- সিরাজউদ্দৌলার ঘোষণা আসছে আবারো বাংলা জয়ের। বখতিয়ার খলজির মতো সতেরো সৈন‍্য নিয়ে উদ্ধারে নামব বাঘের দ্বীপে হেসে উঠবে কমল, শিউলি, টিউলিপ, জবা গান গাইবে কোকিল বিহঙ্গম তুমি হতে পারো মুঘল সাম্রাজ্যের ফর্সা নতুন রাণী সাম্রাজ্যের সীমান্ত বাড়াতে বাড়াতে সাথী হবে মাছরাঙা। নইলে গেটফুল হয়ে ঝরে পড়তে পারো আমার কাঁধে। ----- ১২.০৩.২০২২

তার আকাশ নীল ---- মুশফিক বরাত

আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে হতাশা হারিয়ে গেছে বিরক্তি; প্রেম, মোহসুধা, দুর্বার গতিময়তা। দুঃখ-ক্লেদ, গ্লানি। বন্ধুরা পিছুটান দিয়েছে সমালোচনা ভুলে অসহায় খরগোশ কেড়ে নিয়েছে বিজয়ের হাসিটি। এবং চাটুকার কেড়ে নিয়েছে ঘুম। যেমন আমি দেখেছি নদীর অসম্ভব গতিময়তা তার ক্ষীপ্রতা, টালমাটাল স্রোত। দূরের সাইনবোর্ডটি যেমন স্থির দাঁড়িয়ে থাকে ঠিক তেমনটি নয়। দ‍্যাখ- মোটেও তেমনটি নয়। ঠিক যেন অন‍্যরকম। তোমার নেত্রের কোমল পলক আমাকে যেমন মুগ্ধ করে আমাকে যেমন হারিয়ে ফেলে: ক্রমশ হারিয়ে ফেলে যেন আমরা ঢুকে পড়ি বারবার ক্ষীপ্রতায়, অসম্ভব ক্ষীপ্রতায়। তুমি এনে দিয়েছ আমাকে প্রশান্তি, একটু স্থিততা, একটু ছায়া। আমাকে ক্রমশ জড়িয়ে ধরো আনন্দের অবগাহনে। উপসংহারে তুমি যেন ব'লো না হতাশা বললেই হতাশা। ২৭.০২.২০২২