Posts

একটি গান - মুশফিক বরাত

তোমাকে ছাড়া গতিহারা এ বেদনাবিধুর জীবন গতিপথ পাল্টেছে নতুন স্বপন এ মন; দিন যায় রাত যায় তুলনা তোমার এমন ফুল ফুটেছে জীবনে আমার কানন। দিশেহারা হয়ে ছুটবো কত আর নাবিক পেয়েছে দিশা কী কখনো তার? ভেঙেছে মন আঁখিতে আমার হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা যার। পৃথিবীর কল্পলোকে দেখেছি স্বপ্ন বারবার দেখে নাও পৃথিবী তুমি আবার; শপথ করোনি তুমি যাবার মনটা যে প্রাণ ফিরে পাবার। আকাশ জুড়ে ভেসে বেড়াবে বিপন্ন অমন ক'রে তাকিওনা দেখেছি সোনালী স্বপ্ন প্রজাপতি মনটা আমার বেড়ায় উড়ে তোমাকে নিয়ে একদিন যাব অনেক দূরে।

বুর্জোয়ার ফাঁকতাল --- মুশফিক বরাত

বুর্জোয়ার সাথে শ্রমিকের বিস্তর ফারাক              কেড়ে নেয় শেষ সম্মানটুকুও। পেটি বুর্জোয়ার নেই কোনো ভাবনা-চিন্তা                                   বিনদাস আছে অশিক্ষিত-মূর্খ জনতার সাথে কৃষকের ফাঁকতালের অভাব ইদানীং- আমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বাক‍্য স্বল্প কিন্তু হাজারো বাহার- তার রূপ। তুমি বলবে, সাংগঠনিক হতে হবে আমি বলব, হতে হবে দার্শনিক                     কিছুটা মাত্রায় পার্টিগত। নিদ্রিতা- দুটো গোষ্ঠী আছে তোমারও একটা হুজুর অন‍্যটি লাল পতাকা কিন্তু দু'জন দুই ভিন্ন গোত্রের মানুষ তবে পার্থক্য বিস্তর- একজনকে জনগণ আখ‍্যা দিয়েছে মৌলবাদী-জঙ্গী অন‍্যজনকে জনতা বলছে কমরেড-সাথী-বন্ধু। কোথাও বিপদ গুরুতর-ডেডলাইন নিদ্রিতা জেনে হেসে দিও এক কোটি মানুষের একশত কোটি রকমের বিপদ। মহামতি কার্ল মার্কসের কাছে যেও, জনৈক ব‍্যবসায়ীর আবেগঘন বিপদসঙ্কুলভরা বক্তব‍্য আমার শিকল খুলে দাও!! মৌলবাদ কিংবা লাল বাহিনী           ফাঁকত...

সিন্দাবাদ- দ‍্যা সেইলার : মুশফিক বরাত

সবাই সমুদ্রে যেতে বারণ করেছিল            তার আমরণ পণ সমুদ্র জয়ের গভীর সমুদ্র, উঁচু উঁচু ঢেউ থামাতে পারেনি। জাহাজ চলছেঃ উত্তাল নীল জলরাশি কেঁপে কেঁপে উঠছে অনন্ত শূন‍্যে যাত্রা চলছে অবিরাম গতি হারিয়ে                       আকাশ মিশে গেছে সাগরে। হঠাৎ একটা দ্বীপের সন্ধান ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে সহসা জাহাজে ফিরে আসার নির্দেশ কাপ্তেনের মস্ত এক তিমি মাছের খপ্পরে সিন্দাবাদ। ভীতু মানুষের-প্রতি মানুষের কাপুরুষতা                           থামাতে পারেনি তাকে। তিনি এগিয়ে চলেছেন নীল সমুদ্রের দিকে তিনি পাড়ি দিয়েছেন গহীন আকাশ পানে                                                 সাগর ছুঁতে। সাগরের বুকে ধীরে ধীরে নেমে আসে সন্ধ‍্যা রাত্রি গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয় আচমকা ভোর হলো সূর্য উদিত হলো হালকা হলুদ আকাশে। পাথরের দেয়াল ঘেষে উঠে গেছে এক পাহাড় ভ...

কাশফুল বনাম ঘাসফুল --- মুশফিক বরাত

একটি কাশফুলের গল্প লিখতে বসেছি হতে পারে সেটি একটি কাশফুলের আত্মকাহিনী নারীরা কোনোদিন পায়নি কাশফুলকে পেয়েছে শুধু কেবলি ঘাসফুল নিদ্রিতার স্পর্শ ঘটবে যেদিন কাশফুলের সাথে মেখে নিতে পারবে তার স্বাদ গায়ে-চিবুকে সেদিন সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটবে সেদিন গল্পটা হবে শ্রমজীবীর সেদিন গল্পটা হবে কৃষকের। ছুঁয়ে দিতে পারো তুমিও একটি কাশফুল একদিন। আমিও বলে দিতে পারি পরের সবটুকু। এসো বসি ঘাসে ঘাসফড়িংয়ের পাশে লতাগুল্মের কাছাকাছি। বিসিএস ক‍্যাডার বসে পড়ল ঘাসে বিপ্লবীরা ছুটছেন দিগ্বিদিক। একদিন ভাববাদীরা আমাকে হুমকি দিল, এ অভিনয়টা তোমাকে করতে হবে, একটা বাচ্চার অভিনয় একজন শিশুর অভিনয়।

মিথ‍্যে দম্ভ --- মুশফিক বরাত

এগিয়ে এলেন বিখ‍্যাত জনৈক উপন‍্যাসিক আশেপাশে নেই বিশিষ্ট জন বা বামপন্থী গোছের কেউ। চা-দোকানী এগিয়ে গেলেন আঘাত করতে সিগারেট ব‍্যবসায়ী বললো, মুখে মুখে তর্ক করো! জনৈক মুচি ক্ষণিক কাশলেন চাপাতি নিয়ে ছুটে গেল               উপন‍্যাসিক অভিমুখে; তিনি নির্বিকার, হাসলেন না,                          কাঁদলেন না। বুদ্ধিজীবী টাইপ উপন‍্যাসিককে ঘিরে রেখেছে একশত মানুষ। তারাও নির্বিকার, মুখে টু শব্দটি পড়ছে না অবশেষে জনৈক উপন‍্যাসিক গুরুতর জখম হলেন। আহত হয়ে বিদায় নিলেন                       নীল নকশার স্পট থেকে। ঠিক দশ দিন পর- তাঁর প্রিয় বন্ধু জিগগেস করলো, কেন এমন হলো? তার হাসিমুখে জবাব, আমি ব‍্যবসার লালায়িত স্বর্গের লোভ পছন্দ করিনা। চা-দোকানীকে ধূর্ত ব‍্যবসায়ী বলার যোগ‍্যতা আমার ছিলনা। ছিল না নিচু মানুষকে ধমকাবার                       সুকৌশল-সৎ সাহস।। বন্ধুর শেষ প্রত‍্যুত্তর, সুশীল সমাজ মেনে নেয় যদিও...

নিদ্রিতাকে আমন্ত্রণ --- মুশফিক বরাত

পৃথিবীর সবচেয়ে বাকবিতণ্ডাহীন বাসায় পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব বাসায় পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী পরিবারে যেখানে পাখিগুলো খাঁচা ছেড়ে                    উড়াল দিয়েছে আকাশে। যেখানে বদরের যুদ্ধে নামতে হয়নি প্রতিদিন প্রতিরাত বাড়ি পেরুলেই ধূ-ধূ মাঠ, নীল আকাশ,                                   রোদে ঝলসানো ধানক্ষেত একটু এগিয়ে গেলেই আরাফাতের চায়ের দোকান সুমিষ্ট বন্দীত্ব মেনে নিয়ে সারারাত একই                           এলোমেলো কথোপকথন,                               বাক‍্যালাপ-প্রেমালাপ। তর্কাতর্কির ঝামেলা পোহাতে হয়না এখানে। মনে রেখো- যে বাড়িতে তর্কের ঝড় উঠেনি কোনোদিন বৃষ্টিতে ভিজে ফিরে এসে আবারো মেতে উঠতে হয়নি বিশ্রী বাক‍্যালাপে এখানে- মিষ্টি আলাপচারিতায় সবচেয়ে সুখী মাকে নিয়ে অপেক্ষা করছে একজন               ...

নীলপরী --- মুশফিক বরাত

তিনটে পরী শান্তি খুঁজে ফেরে                        বিশ্বময়, সমুদ্র জুড়ে                            খুঁজে পায় না। আমি ভালোবাসি তাদের। কিন্তু বলিনা ভয়ে-অনুরোধে আনন্দ পাব কোথায়? হাসি পাব কোথায়? সবটুকু কীভাবে মিলবে দু'হাত ভরে! নিরুত্তর সুন্দরী পরীরা- আমি খুঁজে ফিরি প্রশ্নোত্তর নিশ্চয়ই হবে তা কোনো জায়গায়                             কোনো একদিন। কষ্টের প্রতিদান দিতে আসিনি আসিনি ভালোবাসার মূল‍্য দিতে শুধু চেয়েছি পরিশ্রম শ্রমিকের শ্রমে-ঘামে কেনা                          পারিশ্রমিকটুকু চুরি করা শ্রমটুকু অবশেষে- আসুক বিশ্বময়।                                     Date: 10/04/2023