Posts

ফুলের পাপড়িকে ----- মুশফিক বরাত

তোমাকে প্রথমবার যেদিন দেখি ভেবেছিলাম ফর্সা তন্বী এক রমণী আমিও প্রথমবার ভালোবেসে ফেললাম। তোমাকে দ্বিতীয়বার যেদিন দেখি দেখেছি তার ভেতরে গাঢ় হলুদ বর্ণের এক নারীকে। আমিও দ্বিতীয়বারের মতো ভালোবেসে ফেললাম। এরপর তুমি ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছো রমণী থেকে এক নারীতে। আমিও বারবার প্রেমে পড়ে যাই। তারিখ- ২০/১১/২০২১ দিনাজপুর।

বাংলাদেশ --- মুশফিক বরাত

কালো মেঘে ঢেকে যাওয়া একটি নাম বাংলাদেশ। কলিতে হাজারো পোকা বাংলাদেশের ঘূণে-ধরা ভঙ্গুর কাঠে শত শত রাজাকার বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী থেকে মন্ত্রীপরিষদ লাখো লুটেরার আবাস। তুমি কবে শত্রুমুক্ত হবে বাংলাদেশ? বিদেশী পণ‍্যে সয়লাব এদেশে দেশী ব্লেডে সত‍্যিই তো মসৃণ হয় না গাল। বহুজাতিক কোম্পানির ভিড়ে একের পর এক বন্ধ কারখানার লক্ষ শ্রমিক হয়তো না খেয়েই থাকে? নরম বিছানায় শুয়ে তুমি জান না মন্ত্রী সারা দিন ভুখা থাকার মজাটা। দায়ে পড়ে বারো ঘণ্টা লোকঠকানো রোজা রাখ তাও সেহেরী খেয়ে। আর আমার ভাঙ্গা প্লেটে মাটির শ্রমিক চব্বিশ ঘণ্টা ভাত পায় না। কারখানার মরচে ধরা গেটে দাঁড়িয়ে কেঁদে কেঁদে হয়রান একাকী। কালো মেঘে ঢেকে যাওয়া একটি নাম বাংলাদেশ কলিতে হাজারো পোকা বাংলাদেশের। মিথ‍্যে ধর্মের আর কত দোহাই দেবে বাংলাদেশ? ধর্মের নামে সন্ত্রাস করে বেড়ায় লাদেন তুমি তাকে সাবাসী দেও, ইরাকের নিরপরাধ...

সমুদ্রে হাঙ্গর ( এখানে সাম্রাজ‍্যবাদী আমেরিকা অর্থে হাঙ্গর ) --- মুশফিক বরাত

  ১. পেছনে রেখে নীল পানি ওড়ে গাঙচিল, ফেরে না পানির কামার্ত কারুকল্লোলে মুছে যায় পদচিহ্ন হাঁটুচঞ্চল পানিস্পর্শে, মোহসুধায় আর্দ্র: অসহায় পৃথিবী দু'চোখে শঙ্কা। তিন লাইন পানি আর এক লাইন পৃথিবী। ২. নিত‍্য আনাগোনা রঙচঙ্গে নীলের গভীরতা থেকে তেল চপচপে মাটির গন্ধে আরেক মন্বন্তর হলেও রক্তনেশায় হানা দেয় বারবার, থামাও বন্ধ কর কত শত আওয়াজ শুধু শুধুই আওয়াজ জিহ্বা-আলজিহ্বা হয়ে প্রতিধ্বনি, আর কিছু না, জলে জলে সাঁতরে কামানধারাল দাঁত উঁকি দেয় স্থলে।ধেয়ে আসে হাঙ্গর, পেলে ছাড়বে না কিছুই মানুষ কিংবা জড়বস্তু, উগলে দেবে গেলা বোমা, খেয়ে নেবে তেলের ড্রাম মানুষ কিংবা জড়বস্তু ৩. গাঙচিল কিন্তু আর ফেরেনি চিৎকার দিয়ে দিয়ে চলে গেছে। ৪. হাঙ্গর ধরা পড়ে একদিন সত‍্যিসত‍্যিই একটা হাঙ্গর ধরা পড়ে পেট ফেঁড়ে দেখা গেল ঘড়ি, বোতল, বিবিসি, বিশ্বব‍্যাংক, অসংখ‍্য রাষ্ট্রযন্ত্র, ভোয়া, মানুষের হাত আর জাতিসংঘ।

কখনো আনন্দে, কখনো প্রতিবাদে --- মুশফিক বরাত

আমাকে থমকে দেয় আনন্দে বারবার ধানক্ষেতের সোনালী বাতাস, প্রজাপতি, দূর আকাশে সূর্যের ঐ বিচিত্র খেলা, সভ‍্যতার নষ্ট যান্ত্রিকতামুক্ত লবণের দানার মতো জলেঘেরা ময়নাদ্বীপে হোসেনের স্বপ্ন। আমাকে থমকে দেয় বারবার উল্লাসে সাত রঙমুগ্ধ রংধনু, বৃষ্টি, কবিতার ব‍্যাকুল করা লাইন, কমিউনিজম, হারমোনিয়াম, সুমনের গান, আম্মুর বুকের কোমল উত্তাপে মমতায় ঘুম এসে যায় নিমেষেই নিশ্চিন্তে আমার অজান্তে, আনন্দে থেমে যাই। তাই থমকে দাঁড়াই উল্লাসে। আমাকে থমকে দেয় ক্রোধে বারবার লোডশেডিং, সন্ত্রাস, ধর্মান্ধতা, বিশ্বায়ন, সংসদ নির্বাচন, কারখানার অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়ায় ক্ষতবিক্ষত আকাশের বুক; আমাকে বাধ‍্য করে ক্ষুব্ধ হ'তে, বিক্ষোভে জ্বলন্ত অগ্নি হ'তে। সাম্রাজ‍্যবাদের আক্রমণে দিশেহারা ইরাক আর বিধ্বস্ত আফগানিস্তান আমাকে প্রতিবাদে লাল শ্লোগানের ডাক দেয়। তাই থমকে দাঁড়াই ক্রোধে, বিক্ষোভে, প্রতিবাদে।

আমি তোমাকে ভালবাসি --- মুশফিক বরাত

সবুজে সবুজে সীমাহীন সুখ, শ‍্যামল পৃথিবীর বুক রক্তে রক্তে রঙ্গিন, ধূ-ধূ ঘাসে- মাঠে রেখে মাথা তাকালাম চারিদিক। দরদী আকাশের চোখে রেখে চোখ, নীলে নীলে জুড়াল নয়ন। প্রেমে পড়ি নীলাকাশের। রূপসী বৃক্ষের হাতে রেখে হাত, ডালে ডালে মিষ্টি বাতাস। প্রেমে পড়ি বৃক্ষের। মোহিনী মাটির ঠোঁটে রেখে ঠোঁট, গন্ধে গন্ধে হারাল তনু। প্রেমে পড়ি মাটির। তোমাদের ভাষায় যাকে বলে প্রস্তাব, আমি সেই প্রস্তাব নিয়ে এসেছি, আমি যে পৃথিবীর প্রেমে পড়েছি। এত দরদী, এত রূপসী, এত মোহিনী পৃথিবীর প্রেমে হৃদপিন্ড চিরে লিখেছি নাম। এই অতিতুচ্ছ আমি দাঁড়াই ওঁর সামনে, কিশোর অপরাধীর মতো ভয়ে ভয়ে তোতলিয়ে অস্পষ্ট উচ্চারণে বলি -আমি তোমাকে ভালবাসি।

একটি গান --- মুশফিক বরাত

আজকের দিনটা অন‍্যরকম ছিল মনটা মেতেছিল আকাশে নীলে নীলে মিশে মিশে; শীতল বাতাসে। ভালোলাগা ছিল তোমার প্রতি দিনটি দিনটি, আমার চিঠির ইতি ভুলোনা ভুলোনা। হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে ক্ষণিকের সবটুকু নিয়ে; এসোনা কাছে মেতেছে মনটা মেতেছে। আকাশের ভাঁজে ভাঁজে কী রূপ দেখেছি তোমার কাছে কী যেন শিখেছি ভুলিনি ভুলিনি। তোমাকে সাথে নিয়ে কত যে হেসেছি নীল জানালায় ভেসেছি- একটু পাবো ব'লে একটু পাবো ব'লে। ২৩/০৯/২০২১

জ্বলব আবার ---- মুশফিক বরাত

সূর্যের রং নিভে যায় শোষিতের আর্তচিৎকারে। এই বাংলাদেশের সবটাই এখনো অপূর্ণ ; দীঘিতে চিৎ হয়ে মরা মাছের মতো একটা আস্ত নমুনা ভেসে চলছে দিনের পর দিন। কী লাভ বল? কতটা দিন এভাবে একইভাবে ভেসে বেড়াব আমরা?মূল সমুদ্রে কখনো পৌঁছোব না? মহান একুশ তোমা হতেই আরম্ভ এই বাংলাদেশ এরপর ৬২, ৬৯ তারপর ৭১। এখন স্বাধীন। কিন্তু আমরা জানি এখনো পরাধীন এই বাংলাদেশ ; বুর্জোয়ার দল ঘিরে ফেলেছে তোমাকে। মাঝখানে অসংখ্য, অগণিত ভুখা, নাঙ্গা মানুষের দুমুঠো ভাতের যোগান এখনো দিতে পারেনি স্বাধীনতা। একুশ তোমাকে আশ্রয় করে আবার জ্বলে উঠতে চাই আন্দোলনে, মিছিলে-মিছিলে। কারণ তোমাতেই তো শুরু। 21/09/2021