Posts

প্রাগৈতিহাসিক --- মুশফিক বরাত

আমার একজন নিষ্প্রভ জলপাই রঙের বন্ধু আছে যে তার লজ্জাবতীর ন‍্যায় চক্ষুলজ্জা নিয়ে বরাবর                                     বিপদে পড়ে যায়। অর্থলজ্জায় লজ্জিত হয় সময়ে-অসময়ে আমি বিরক্ত হই বরাবর বিরক্ত হই কিন্তু কিচ্ছু বলিনা বলিনা জ্বালাতন ক'রো না। তুমি বলবে মাটি, পানি, বায়ু ও আগুনের                                ভুল বিশ্লেষণ? আমি বলবো প্রথম আগুন আবিষ্কারে ভালোবেসে ফেলেছিলাম তোমাকে! আদিম মানুষের আদিমতা ভেদ ক'রে উঠে যেতে থাকি ক্রমশ তোমার                পায়ের আঙুল-নখ-ঊরু; নিতম্ব-কোমরের লাজুকতায় ছুঁয়ে দিয়েছি নাভিমূল স্পর্শে শিহরিত হয়েছিলাম। হাতের কনুই চুম্বনে হারাই বক্ষে কাঁধে ও বাহুতে এঁকে দিয়েছি সম্পূর্ণ জীবনপণ হাঁপাতে হাঁপাতে কান ছুঁয়ে ফিরে গিয়েছি নাভিমূলে। কিন্তু ভুলিনি সোনালী চুলের বাতাস-আকাশ লতা-গুল্মের মতো চেয়েছি বারংবার। সেই নিদ্রিতা- আধুনিক সভ‍্যতায় কতোটা অচেনা? প্রাচীন প্রস্তরযু...

আশ্রয়স্থল --- মুশফিক বরাত

মানুষ আশ্রয় নেয় বনে-জঙ্গলে-তেপান্তরে পশু-পক্ষী আশ্রয় নেয় গাছে-গাছে ডালে-ডালে প্রেমিকের বুকে ঠাঁই ক'রে নিয়েছে                      ছোঁয়াচে প্রেমিকা উত্তাপে। বাদামী ঘোড়া ফল-মূল, পাতা, ঘাস খেয়ে ফিরে যায় নিজ ঠিকানায়                    জঙ্গলে-ঘাসের রাজ‍্যে। হ‍্যালো নিদ্রিতা- যেমন কখনো ভাবি ফকির হবার এগারোটি উপায় হিংস্র নেকড়ের দল হতে চায় না কখনো বিড়াল ঘূর্ণাক্ষরেও বাঘ কি হতে চাইবে বুনো হরিণ একবারও। একজন নিদ্রিতার বুকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠুক অন্তত একটি কাশফুলের। টিয়া বাসা বাঁধে মানববসতির কাছে                                  বড় বড় গাছে মাছরাঙা জলাশয়ের পাশে পাড়ের গর্তে                                   বাসা করে; জনসম্মুখে পেখম মেলেছে যে                      নীল ময়ূর প...

অপরাধ গুরুতর --- মুশফিক বরাত

তার অপরাধ হলো সে খোদা-ভগবান-ঈশ্বর বলেছিল তার অপরাধ হলো সে একমুঠো ভাত চেয়েছিল তার অপরাধ হলো সে পুঁজির বিরোধিতা করেছিল তার অপরাধটা ছিল পাবলিক প্লেসে সাজিয়ে নিরীশ্বরের গল্প না করাটা। মোটকথা, সোজাসাপটা ভাষায় জাহির করতে                                              পারেনি সাবাসীটুকু। অপরাধ হলো- মহামতি মার্কসের মতো গর্বে ভরা শব্দগুলো                        ছুঁড়ে দিতে না পারাটা; জনগণ প্রকাশ‍্যে তাকে পাগল বলেছিল। টিনের মালা পরিয়ে ঘুরিয়েছিল                        প্রকাশ‍্যে এক চক্কর তার পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত                                   শুকোয়নি আজো। ষাট লক্ষ ইহুদির প্রাণ তাড়িয়ে বেড়ায়                           ...

আবহাওয়া প্রতিকূলে --- মুশফিক বরাত

নির্বাচিত গল্পগুচ্ছের আড়ালে নিদ্রিতাকে জানালাম, পৃথিবীতে এমন কিছু লোক আছে যারা নচিকেতার মতো বলতে চায়- বিমান বসুর মতো হতে চায়। একের পর এক উন্নত প্রযুক্তির সেতু নির্মাণ হলেও লক্ষ মানুষ না খেয়ে মরে। এবং বিপত্তির মুখে পদ্মা সেতুতে                                 পদ্মার ইলিশ- এই যেমন ধরো ভোটের পনেরো দিন পূর্বে জনগণ আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায়! কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে সদ‍্য জেগে উঠা ঝলমলে ভাইজান হঠাৎ বলে উঠলেন ---- এসো ন‍্যাপ করি। আর আমিও তা নিদ্রিতাকে বলতে দ্বিধা বোধ করিনা। নিদ্রিতা আমাকে জানাল- চরম অভিমানে ভাইজান বলেছিল, আসল নেতাকে আমি চিনিনা-জানিনা। নির্বাচনের সরগরমে চা-দোকানীর ঘাম ঝরা মুখ আর অভিমান ভরা কণ্ঠস্বর ভাবায়- কখনো কাঁদায়। স্টার জলসার ঘন ঘন সিঁদুর সিঁদুর খেলা লজ্জা- লজ্জা জাগায়। তোমার সাথে আমার মিলন তিথির বিরহের এক প্রহর; যেমন আমার দেশ-দেশান্তরে সেলফোনের সংযোগবিহীন এক ঘণ্টা। তুমি জানলে না          আমার হাসির আড়ালে          আমার হাসির আড়ালে অবশেষে ভাবি, সেফুদার কো...

উত্থান --- মুশফিক বরাত

জেগেছি শ্রমিক, জেগেছি কৃষক জেগেছি রাজপথ কে আছে কোন রাজপুরুষ ঠেকায় ভবিষ্যত। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান মানি না জাত ধর্ম আমরা আজ এক হয়েছি ধর্ম- মানব ধর্ম। মিলেছি নবীন, মিলেছি প্রবীণ মিলেছি সর্বহারা না না না, মানব না অত‍্যাচারীর তাড়া। জপেছি এবার নির্ভয়ে মুক্তির মহান মন্ত্র দেখেছি লাল স্বপ্ন সমাজতন্ত্র, সমাজতন্ত্র।

কোজাগর --- মুশফিক বরাত

শরতের শেষে আকাশে বৃত্তাকার প্রেমের থালা খেলা করে আলো নিয়ে ভাসতে ভাসতে প্রশ্ন ছুঁড়লে কলঙ্ক লুকিয়ে নিজেকে বাড়িয়ে ধরে আমি ধরতে চাই কিন্তু সে সাধ‍্য কোথায় তবুও এলোমেলো বাতাসে দুলতে দুলতে আপনতায় এমন সদুত্তর পাবো না অন‍্য কোথাও         ----  ২৭/০৮/২০২১

নিদ্রিতার মুখোমুখি --- মুশফিক বরাত

১. আমার কাছে একজন রূপবতী নারী মানে সোনালী বেন্দ্রে আমার কাছে একজন লজ্জাবতী রমণী মানে রাধা-রাণী আমার কাছে আকাশ মানে নীল। নদী মানে খরস্রোতা- চোখের জল এসে যাবে ব'লে লুকিয়ে ফেলেছ নিজেকে, কখনো তীরে এসে খবর নিয়েছো আমি কে? আমি একজন সুপুরুষ। নদী ভালোবাসোনি ব'লে এসেছো সমুদ্রের কাছে নীল ভালোবাসোনি ব'লে জলপাই রঙের শাড়ি খুঁজছো? একদিন চোখের জলে ডুকরে কেঁদে বলবে- ভালোবাসি তোমায়! ২. আমার আছে- চিতাবাঘের মতো ক্ষীপ্রগতি সেলফিশের মতো দানবীয়তা আর বাজপাখির ন‍্যায় বায়বীয় দ্রুতময়তা তোমার জন‍্যে ধূর্ত বাঘের সম্মুখ থেকে ফিরে আসতে পারি। ফিরে আসতে পারি ইভেন্ট হরাইজন থেকে, এমনকি ভারত মহাসাগরের গভীর তলদেশ থেকেও। আমাদের প্রেমের কাছে মার্চিসন উল্কার আদিমতা পরাজয় বরণ করবে ডেকে আনবে মধ‍্যযুগীয় বর্বরতা যেখানে ছিল নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা অবাধ আচরণ। ধেয়ে আসবে প্রিয় শহর সমান উল্কাপিণ্ড; রুখে দেবে হিমালয় পর্বত। সেদিন প্রথম খবরে দেখলাম একজন কৃষক একটা শুধুমাত্র একটা ধানগাছের জন‍্য গভীর জলে ডুব দিয়েছিল। আমিও কি? পারবেন কি আমার পিতৃতুল্য পিতা...